গরীব বন্ধু

(সকল) ‘ভোট পাখি’রা গেছে উড়ে (তারা) আসবে বছর পাঁচেক পরে (কিন্তু) দুলাল দাদার আনাগোনা (আমি) আজও দেখি গরীব ঘরে। (তাতে) নেই কোনও কৃত্রিমতা (আর) ডাবের জল খেয়ে থাকা (আমার) দুঃখের সাথী, সমব্যথী (আসল) গরীব বন্ধু সেই তো ওরে। (কোনও) ভোট ভিক্ষুকের নেইকো টিকি (তারা) এবার ভোটে আসুক দেখি (এবার) শুনব …

মনে রেখো

কালকে ছিলাম ছাত্র আমিস্যর হয়েছি আজতোমাদেরকে পড়ানোটাইআমার প্রধান কাজ। শুধুই কি আর পড়াই আমিনিজেও কত পড়িচেষ্টা করি তোমাদেরকেভালোভাবে গড়ি। ভবিষ্যতের বড় মানুষতোমরাই তো হবেআজকে হতেই স্বপ্ন-পূরণপ্রস্তূতি নাও তবে। কেউবা তোমরা বড় হয়েহবে প্রফেসারহয়তো বা কেউ চাইছ হতেনাম করা ডাক্তার। কারও বা শখ ‘গায়ক হব’কেউবা ‘অভিনেতা’কারও মনে আবার একটু‘অন্য ছবি’ আঁকা। …

ভোটপাখি

ছোট নেতা ছোট নেতাএত ভোরে যাও কোথা?দাঁড়াওনা একবার ভাই।দ্বারে ভোট কড়া নাড়েযাই ভোট প্রচারেদাঁড়াবার সময় তো নাই। বড় নেতা বড় নেতাদলবল নিয়ে কোথাচলিয়াছ যাও নাকো বলি।সামনে ইলেকশনভোটে দাঁড়িয়েছি ভাইতাই ভোট ক্যাপচারে চলি। ভোট পাখি ভোট পাখিক’রে এত ডাকা ডাকিকোথা যাও যাও ভাই বলি।কথা নেই আর হেথাআসিয়াছে ভোট যেথাএক্ষণে সেইখানে চলি।

আজকে

আজকে আমার তোমার সাথেহারিয়ে যেতে নেই মানামেঘের সাথে নীল আকাশেমেলে দিলাম এই ডানা।সীমার বাঁধন ছিন্ন করেআজকে ছুটে চলবমেঘের সাথে আমিও আজলুকোচুরি খেলব,যাব আমি নিরুদ্দেশেযেথায় চাঁদের সভা বসেরামধনুর ওই রংগুলি সবআজকে লুটে আনব।

চলছে এবার মোদী সরকার

বৃষ্টির ছাঁট মাথায় পরে উত্তপ্ত রৌদ্রে ছারখার পাবোতো মাথা গোঁজার ঠাই চলছে তো এবার মোদী সরকার। শীত আসে কম্বল নাই হয়ত বা ঠান্ডায় মারা যাই গরীবি তোমরা পরে হঠিও এখন আমার একটা কম্বল দরকার। ডিলার বাবুর মিষ্টি কথায় ‘কিছুই আসেনি রে এই সপ্তায়…’ ফিরে আসি রোজ খালি ড্রাম হাতে তেল …

আমার প্রথম কবিতা

কত রঙে ছবি আঁকাজীবনের পাতায় পাতায়আঁকব সেসব তুলির টানেআমার কবিতায়।এ হৃদয়ের যত ব্যথাযত দুঃখ মনে গাথালিখব আজি সেসব কথাএই কবিতায়।এ আমার প্রথম কবিতাহায়!সেতো আজ কান্না হয়ে যায়।

হ্যাপি নিউ ইয়ার

একটি বছর পার হয়েআরেক বছর এলোকত কিছুই দিলো সে যেকত কিছুই নিলো।দেওয়া-নেওয়ার খেলায় বছরকখন হল পার,বন্ধু আমি জানাই তোমায়হ্যাপি নিউ ইয়ার।

অসংজ্ঞাত শহর

অসংজ্ঞাত শহর নিস্তব্ধ, নিশ্চূপ, মৃত-প্রায় এখন। শুধু মাঝে মধ্যে ওই দূরে কোথাও কোনও মূমূর্ষ রোগী নিয়ে ছোটে যান… শব যান। আমি বলি ওকে। গ্বহরে গভীর বেদনা, আর মস্তিস্কের ধূসর কোষে সোমত্ত জিদ নিয়ে পাল্লা তার নিয়তির সাথে। ক্রমশ ক্ষীণ… আরও ক্ষীণ হয়ে আসে তার গোঙানি। অবশেষে নিয়তির হবে জয়, সেতো …

আমি এমনই

তোমরা আমাকে বল…‘তুমি এমন কেন?’‘কত ভালো হত যদি এরকম হতে’‘এইভাবে তুমি চলছনা কেন?’‘তাহলে এত এত সব তুমিও পেতে।’ আমিও কখনও ভাবি…আমি এমন নই কেন?কেন চলিনা আমি এভাবে?সাধেকি আমি হয়ে আছি ছোটো!সে তো আমারই স্বভাবে। সেদিন একটি পত্র পেলাম আমি…তাতে লেখা – ওহে ভাই,তুমি তোমার মত, তুমি আছ তাই।অন্যের সাথে তোমার …

শ্রাবনের সন্ধ্যায়

টুপ-টাপ টুপ-টাপঝড়ে চলে অবিরামআমি শুধু জানালায়বসে থাকি চুপ-চাপ। মনে মনে ভেবে চলিওই বুঝি আকাশেভেসে ভেসে বাতাসেকরে কেউ জলকেলি। যেন কোন সুর আসেদূর আরও দূর হতেআঁধারের সাথে সাথেবাতাসের গায়ে ভেসে। টুপ-টাপ টুপ-টাপঝড়ে চলে অবিরামশ্রাবনের সন্ধ্যায়বসে থাকি চুপ-চাপ।

বীর পুত্র

মাগো তুমি ভয় করোনাআছে তোমার ছেলেআসুক যতই বিপদ-বাঁধালড়ব অবহেলে,আঁধার রাতের অসুর যতআসুক তারা শত শতদেখবে তুমি লুটাবে সবতোমার চরণ তলে;মাগো তুমি ভয় করোনাআছে তোমার ছেলে।

এখন

এখন হতাশা আর ব্যর্থতা ছাড়া কোনও সাথী নেই আমার। সামনে মৃত্যুর গুমোট গন্ধ জড়ানো কালো-আঁধারি ভবিষ্যত। হায় প্রেম! সে তো আজ চোপসানো ফানুস। এই আমি, আছি কি না কে জানে? কতদিন নেই…

মা

মা,আমি ঘুমিয়ে ছিলাম ঘুমের দেশেতুমি কেন মা আমায় ভালোবেসেআনলে ডেকে এই ভবেরই মাঝারে?সেথায় আমি একলা ছিলেমএথায় সারা জগৎ পেলেমএকাকীত্বের জগৎ খানি হারায়ে। কল্পনাতীত দিলে মোরেনিজস্বতা উজার করেস্নেহের বাঁধন দিয়ে আমায় জড়ালে,গড়লে আমায় তিলে তিলেআলোর দুয়ার খুলে দিলেচন্দ্র-তারা-জ্যোৎস্না এনে পরালে। মুখে তুমি দিলে ভাষামনের মাঝে লক্ষ আশারপ্রদীপ খানি জ্বালালে,আমার খুশির আলো …

ওই মেঠো পথ ধরে

ছায়া ঘেরা ওই সরু মেঠো পথসোনার বিল তার বায়,দিবস-রজনী গোধূলী-প্রভাতেকেহ আসে কেহ যায়।শুখপুকুর তার ডান দিকে থাকেস্নেহের বাঁধনে বেঁধেছে যে তাকেবয়েছে সে পথ তারই বাঁকে বাঁকেবট বৃক্ষের ছায়।ছায়া ঘেরা ওই মেঠো পথ ধরেকেহ আসে কেহ যায়।

শরৎ এল

অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপাত আরবাদল বিদায় দিয়ে,বর্ষা শেষে শরৎ এলহিমের পরশ নিয়ে।শিউলি-পদ্ম-কাশফুল আরখুশির ডালা সঙ্গে,আনমনা মন তাইতো আমারনেচে ওঠে আনন্দে।শরৎ মানেই মা আসবেসঙ্গে শুভের আলো,শরৎ এলেই তাইতো আমারলাগে এত ভালো!

তিন পৃষ্ঠা বাকি

কবি হওয়ার স্বপ্ন ছিল মনে ছিল আশা, কিন্তু কোথায় সে কবিত্ব? ছন্দময়ী ভাষা? সুর আসেনা, পারিনা গান নেই কবিতায় ছন্দ, কি যে লিখি ! ছাই পাশ, তায় নেই কবিতার গন্ধ। এক ছত্রও লিখিনা তো শুধুই করি চিন্তা, কবিতার ‘ক’ লিখতে গিয়েই কলম ভাঙ্গে তিনটা। দিনরাত্তির খাতার পাতায় শুধুই বুকি আঁকি, …

কর্ম নির্দোষ

কান্না হাসির এই দুনিয়ায় কেউ কাঁদে কেউ হাসে, হাসি-কান্নার মাঝে সবাই জীবন ভালবাসে। সুখ-দুঃখের পৃথিবীটা কেউ সুখি কেউ দূখী, এরই মাঝে নানান সাজে জীবন বহুমুখী। ভালো থকলে মন্দ থাকবে সবাই সেটা জানে, কর্ম নির্দোষ, তবুও মানুষ ভালো-মন্দ মানে।

ভালো-খারাপ

সবাই শুধু বাসবে ভালোকারও ঘৃনার পাত্র হবনা,সবার কাছেই পাব আদরআঘাত কারও কাছে পাব না;মণি হব সবার চোখেরহবনা কারও চোখের কাঁটা,সবাই শুধু ভালোই বলবেএসব কথা ভাবাই বৃথা।

শেখো

চাঁদের মত হাসতে শেখোসবে ভালো বাসতে শেখোসত্যি কথা বলতে শেখোভক্তি শ্রদ্ধা করতে শেখোসূর্য সম জ্বলতে শেখোবায়ুর বেগে চলতে শেখোস্ব-সন্মানে বাঁচতে শেখোবীরের মত মরতে শেখো। ( অনুদিত)

বড় কষ্ট এই বুকে

বন্ধু, তোমার কথা আজ পড়ছে বড়ই মনে,কত দিন হল দেখিনি তোমায়, কথা নেই দুইজনে।সেই যে তুমি বলেছিলে মোরে, ‘ভুলবনা কোনও দিন’;হৃদয়ের বাঁধনে বাঁধা আছি তায়, আজন্ম, চিরদিন।জানিনা তুমি আছহ কেমন, আছ কি সেই তেমন?যেমনি আমি এসেছি দেখে, ঘাস ফুলটির মতন?আজও কি তুমি মনে কর আমায়? জ্যোৎস্না মায়ের কোলেবসে কি ভাবো? …

তোমরা-আমরা

তোমরা থাকো ছাদের তলায়আমরা আকাশ তলেকষ্ট করি দিন রাত্তিররোদ-বৃষ্টি-জলে। তোমরা খাও চপ-কাটলেটফ্রায়ড-রাইস খাসি,আমরা না হয় দু-এক বেলাথাকি উপবাসী। তোমরা পর দামী পোশাকচড় এসি গাড়ি,আমরা না হয় মাঝে-মধ্যেতাতেই চাপা পড়ি। তোমরা সবাই বড় মানুষফিটবাবু সব যত,আমরা না হয় মুখ্য-সুখ্যচাষা গোঁয়ার যত। তোমরা দেখ দামী লেন্সেজীবনটা রঙিন,আমরা দেখি খাদ্য ছাড়াবাঁচাটাই সঙ্গীন।

আমার গ্রাম

তুমি চেনো কি আমার গ্রাম?যেথা শান্ত স্নিগ্ধ সবুজের কোল,তার উদয় নগর নাম। সকাল বেলা হলেসেথা গুরুমাষ্টারের পাঠশালা বসেবট-কাঁঠালের তলে,আর বুড়োদের চায়ের আসরে মাতেফটিকের চায়ের দোকান,যেথা শান্তির ধাম, আনন্দাধারতাঁর, উদয় নগর নাম। তুমি চেনো কি আমার গ্রাম?যা পূণ্যভূমি, আমার স্বর্গতাঁর উদয় নগর নাম। সেথা সন্ধ্যা বেলা হলেমেঠো পথ ধরে উড়িয়ে ধূলোচাষীরা …

বৃষ্টি এলো

বৃষ্টি এলো সন্ধ্যে বেলায়ঝম্‌ ঝম্‌ ঝম্‌ অঝর ধারায়,রায় বাড়ির ওই চালের ফাঁকেপায়রারা সব লুকিয়ে থাকে,রাতের আগেই নামল আঁধারমোদের ছোটো গাঁয়। বৃষ্টি এলো সন্ধ্যে বেলায়মোদের ছোটো গাঁয়।

একটা ছিল

একটা ছিল পুকুর,গরম কালের দুপুর,সেই পুকুরের জলেতেহাঁস গুলি সব খেলছিল। আরও একটা গাছ ছিল।সেই গাছেরই ডালেতেপাখিরা সব নাচছিল,মিষ্টি সুরে গাইছিল। একটা ছিল গ্রাম‘উদয় নগর’ নাম,সেই গ্রামের মাঝদিয়েএকটি বাঁকা পথ ছিল। আরও একটা মাঠ ছিল।সেই মাঠেরই জমিতেসোনার রঙের ধান ছিল,দখিন হাওয়ায় দুলছিল।

বন্ধুত্ব আর ভালবাসা

জন্ম হতেই জীবন শুরুশুরু পথের চলা,প্রেম হল তার অংশ বিশেষসৌন্দর্য তার কলা।জীবনের সমাপ্তি হলেমৃত্যু তারে কয়,বন্ধুত্ব আর ভালবাসাকিন্তু অমর রয়।

স্বপ্ন দেখি

এক নতুন সুপ্রভাতের স্বপ্নদেখি রাতে,এক নতুন পথে চলব বলেইচলি পথে।এক নতুন কথা শুনব বলেশুনি কথা,এক নতুন কথা বলব বলেইবলি কথা। চলতে চলতে জানি আমিপাবই নতুন পথশুনব নতুন কথা;নতুন জীবন-সূর্য উঠবে জেগেসে আলোকেমেলাবে সব ব্যাথা।

মুক্তি চাই

পৃথিবিটা জানি শান্তির স্বর্গরাজ্য নয় আর… চারিদিকে শুধু ছোটো করে বড় হবার এ এক অমানুষিক অপচেষ্টা। পৃথিবিটা জানি স্বপ্নের দেশ নয় আর… দুঃস্বপ্নের ভয়ংকর প্রেত এখন হানা দেয় বাস্তবেও। আকাশটা জানি ঠিক নীল নয়তো আর… বিষাক্ত মৃত্যুবীজ ভাসছে সেখানেও। ধোঁয়াটে সে। বহু কোটি শত পাপে জর্জরিত ধরা আর কত কাল? …

মুচকি হেসে

সবুজ মাঠের কোলেমাথা দুলে দুলে,ডাকছে আমায় সবুজ ঘাসআয় ছুটে আয় চলে। মুচকি হেসে ডাকে যখনআকাশের ওই তারা,আমি তখন আপন মনেআনন্দে হই হারা। মিষ্টি সুরে ভোরেরে পাখিযখন করে গান,শিশির জমা ঘাসের তালেনাচে আমার প্রাণ।

কেন?

দিনের পরে রাত্রি আসে কেন?নতুন দিন আসবে বলে।জীবন যদি, মরণ তবে কেন?নতুন জীবন পাব বলে। ভালো যদি মন্দ তবু কেন?আবার ভালো হবে বলে।সুখ যদি, দুঃখ তবে কেন?আবার সুখ আসবে বলে। হাসির পরে কান্না আসে কেন?আবার মোরা হাসব বলে।আশা যদি, হতাশ তবে কেন?আবার আশা করব বলে। পেলে পরে হারাই তবে কেন?আবার …