শ্রাবনের সন্ধ্যায়

টুপ-টাপ টুপ-টাপঝড়ে চলে অবিরামআমি শুধু জানালায়বসে থাকি চুপ-চাপ। মনে মনে ভেবে চলিওই বুঝি আকাশেভেসে ভেসে বাতাসেকরে কেউ জলকেলি। যেন কোন সুর আসেদূর আরও দূর হতেআঁধারের সাথে সাথেবাতাসের গায়ে ভেসে। টুপ-টাপ টুপ-টাপঝড়ে চলে অবিরামশ্রাবনের সন্ধ্যায়বসে থাকি চুপ-চাপ।

বীর পুত্র

মাগো তুমি ভয় করোনাআছে তোমার ছেলেআসুক যতই বিপদ-বাঁধালড়ব অবহেলে,আঁধার রাতের অসুর যতআসুক তারা শত শতদেখবে তুমি লুটাবে সবতোমার চরণ তলে;মাগো তুমি ভয় করোনাআছে তোমার ছেলে।

এখন

এখন হতাশা আর ব্যর্থতা ছাড়া কোনও সাথী নেই আমার। সামনে মৃত্যুর গুমোট গন্ধ জড়ানো কালো-আঁধারি ভবিষ্যত। হায় প্রেম! সে তো আজ চোপসানো ফানুস। এই আমি, আছি কি না কে জানে? কতদিন নেই…

মা

মা,আমি ঘুমিয়ে ছিলাম ঘুমের দেশেতুমি কেন মা আমায় ভালোবেসেআনলে ডেকে এই ভবেরই মাঝারে?সেথায় আমি একলা ছিলেমএথায় সারা জগৎ পেলেমএকাকীত্বের জগৎ খানি হারায়ে। কল্পনাতীত দিলে মোরেনিজস্বতা উজার করেস্নেহের বাঁধন দিয়ে আমায় জড়ালে,গড়লে আমায় তিলে তিলেআলোর দুয়ার খুলে দিলেচন্দ্র-তারা-জ্যোৎস্না এনে পরালে। মুখে তুমি দিলে ভাষামনের মাঝে লক্ষ আশারপ্রদীপ খানি জ্বালালে,আমার খুশির আলো …

ওই মেঠো পথ ধরে

ছায়া ঘেরা ওই সরু মেঠো পথসোনার বিল তার বায়,দিবস-রজনী গোধূলী-প্রভাতেকেহ আসে কেহ যায়।শুখপুকুর তার ডান দিকে থাকেস্নেহের বাঁধনে বেঁধেছে যে তাকেবয়েছে সে পথ তারই বাঁকে বাঁকেবট বৃক্ষের ছায়।ছায়া ঘেরা ওই মেঠো পথ ধরেকেহ আসে কেহ যায়।

শরৎ এল

অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপাত আরবাদল বিদায় দিয়ে,বর্ষা শেষে শরৎ এলহিমের পরশ নিয়ে।শিউলি-পদ্ম-কাশফুল আরখুশির ডালা সঙ্গে,আনমনা মন তাইতো আমারনেচে ওঠে আনন্দে।শরৎ মানেই মা আসবেসঙ্গে শুভের আলো,শরৎ এলেই তাইতো আমারলাগে এত ভালো!

তিন পৃষ্ঠা বাকি

কবি হওয়ার স্বপ্ন ছিল মনে ছিল আশা, কিন্তু কোথায় সে কবিত্ব? ছন্দময়ী ভাষা? সুর আসেনা, পারিনা গান নেই কবিতায় ছন্দ, কি যে লিখি ! ছাই পাশ, তায় নেই কবিতার গন্ধ। এক ছত্রও লিখিনা তো শুধুই করি চিন্তা, কবিতার ‘ক’ লিখতে গিয়েই কলম ভাঙ্গে তিনটা। দিনরাত্তির খাতার পাতায় শুধুই বুকি আঁকি, …

কর্ম নির্দোষ

কান্না হাসির এই দুনিয়ায় কেউ কাঁদে কেউ হাসে, হাসি-কান্নার মাঝে সবাই জীবন ভালবাসে। সুখ-দুঃখের পৃথিবীটা কেউ সুখি কেউ দূখী, এরই মাঝে নানান সাজে জীবন বহুমুখী। ভালো থকলে মন্দ থাকবে সবাই সেটা জানে, কর্ম নির্দোষ, তবুও মানুষ ভালো-মন্দ মানে।

ভালো-খারাপ

সবাই শুধু বাসবে ভালোকারও ঘৃনার পাত্র হবনা,সবার কাছেই পাব আদরআঘাত কারও কাছে পাব না;মণি হব সবার চোখেরহবনা কারও চোখের কাঁটা,সবাই শুধু ভালোই বলবেএসব কথা ভাবাই বৃথা।

শেখো

চাঁদের মত হাসতে শেখোসবে ভালো বাসতে শেখোসত্যি কথা বলতে শেখোভক্তি শ্রদ্ধা করতে শেখোসূর্য সম জ্বলতে শেখোবায়ুর বেগে চলতে শেখোস্ব-সন্মানে বাঁচতে শেখোবীরের মত মরতে শেখো। ( অনুদিত)

বড় কষ্ট এই বুকে

বন্ধু, তোমার কথা আজ পড়ছে বড়ই মনে,কত দিন হল দেখিনি তোমায়, কথা নেই দুইজনে।সেই যে তুমি বলেছিলে মোরে, ‘ভুলবনা কোনও দিন’;হৃদয়ের বাঁধনে বাঁধা আছি তায়, আজন্ম, চিরদিন।জানিনা তুমি আছহ কেমন, আছ কি সেই তেমন?যেমনি আমি এসেছি দেখে, ঘাস ফুলটির মতন?আজও কি তুমি মনে কর আমায়? জ্যোৎস্না মায়ের কোলেবসে কি ভাবো? …

তোমরা-আমরা

তোমরা থাকো ছাদের তলায়আমরা আকাশ তলেকষ্ট করি দিন রাত্তিররোদ-বৃষ্টি-জলে। তোমরা খাও চপ-কাটলেটফ্রায়ড-রাইস খাসি,আমরা না হয় দু-এক বেলাথাকি উপবাসী। তোমরা পর দামী পোশাকচড় এসি গাড়ি,আমরা না হয় মাঝে-মধ্যেতাতেই চাপা পড়ি। তোমরা সবাই বড় মানুষফিটবাবু সব যত,আমরা না হয় মুখ্য-সুখ্যচাষা গোঁয়ার যত। তোমরা দেখ দামী লেন্সেজীবনটা রঙিন,আমরা দেখি খাদ্য ছাড়াবাঁচাটাই সঙ্গীন।

আমার গ্রাম

তুমি চেনো কি আমার গ্রাম?যেথা শান্ত স্নিগ্ধ সবুজের কোল,তার উদয় নগর নাম। সকাল বেলা হলেসেথা গুরুমাষ্টারের পাঠশালা বসেবট-কাঁঠালের তলে,আর বুড়োদের চায়ের আসরে মাতেফটিকের চায়ের দোকান,যেথা শান্তির ধাম, আনন্দাধারতাঁর, উদয় নগর নাম। তুমি চেনো কি আমার গ্রাম?যা পূণ্যভূমি, আমার স্বর্গতাঁর উদয় নগর নাম। সেথা সন্ধ্যা বেলা হলেমেঠো পথ ধরে উড়িয়ে ধূলোচাষীরা …

বৃষ্টি এলো

বৃষ্টি এলো সন্ধ্যে বেলায়ঝম্‌ ঝম্‌ ঝম্‌ অঝর ধারায়,রায় বাড়ির ওই চালের ফাঁকেপায়রারা সব লুকিয়ে থাকে,রাতের আগেই নামল আঁধারমোদের ছোটো গাঁয়। বৃষ্টি এলো সন্ধ্যে বেলায়মোদের ছোটো গাঁয়।

একটা ছিল

একটা ছিল পুকুর,গরম কালের দুপুর,সেই পুকুরের জলেতেহাঁস গুলি সব খেলছিল। আরও একটা গাছ ছিল।সেই গাছেরই ডালেতেপাখিরা সব নাচছিল,মিষ্টি সুরে গাইছিল। একটা ছিল গ্রাম‘উদয় নগর’ নাম,সেই গ্রামের মাঝদিয়েএকটি বাঁকা পথ ছিল। আরও একটা মাঠ ছিল।সেই মাঠেরই জমিতেসোনার রঙের ধান ছিল,দখিন হাওয়ায় দুলছিল।

বন্ধুত্ব আর ভালবাসা

জন্ম হতেই জীবন শুরুশুরু পথের চলা,প্রেম হল তার অংশ বিশেষসৌন্দর্য তার কলা।জীবনের সমাপ্তি হলেমৃত্যু তারে কয়,বন্ধুত্ব আর ভালবাসাকিন্তু অমর রয়।

স্বপ্ন দেখি

এক নতুন সুপ্রভাতের স্বপ্নদেখি রাতে,এক নতুন পথে চলব বলেইচলি পথে।এক নতুন কথা শুনব বলেশুনি কথা,এক নতুন কথা বলব বলেইবলি কথা। চলতে চলতে জানি আমিপাবই নতুন পথশুনব নতুন কথা;নতুন জীবন-সূর্য উঠবে জেগেসে আলোকেমেলাবে সব ব্যাথা।

মুক্তি চাই

পৃথিবিটা জানি শান্তির স্বর্গরাজ্য নয় আর… চারিদিকে শুধু ছোটো করে বড় হবার এ এক অমানুষিক অপচেষ্টা। পৃথিবিটা জানি স্বপ্নের দেশ নয় আর… দুঃস্বপ্নের ভয়ংকর প্রেত এখন হানা দেয় বাস্তবেও। আকাশটা জানি ঠিক নীল নয়তো আর… বিষাক্ত মৃত্যুবীজ ভাসছে সেখানেও। ধোঁয়াটে সে। বহু কোটি শত পাপে জর্জরিত ধরা আর কত কাল? …

মুচকি হেসে

সবুজ মাঠের কোলেমাথা দুলে দুলে,ডাকছে আমায় সবুজ ঘাসআয় ছুটে আয় চলে। মুচকি হেসে ডাকে যখনআকাশের ওই তারা,আমি তখন আপন মনেআনন্দে হই হারা। মিষ্টি সুরে ভোরেরে পাখিযখন করে গান,শিশির জমা ঘাসের তালেনাচে আমার প্রাণ।

জীবনে যদি

বন্ধু, জীবনে যদি দুঃখের বোঝা বইতে বইতে আর বইতে না পারো তবে তখন আমায় ডেকো, যদি কখনও কষ্ট সইতে সইতে আর সইতে না পারো তবে তখন আমায় বোলো। বন্ধু বলে ডাকার এটুকু অধিকার অন্তত আমাকে দিও।

দুঃখ তো থাকবেই

কিছু পেতে হলে কিছু তো দিতে হবেই তাই বলে কি পেতে যাব না? ভালোবাসায় দুঃখ তো থাকবেই তাই বলে কি ভালো বাসব না? সুখ-দুঃখ পাওয়া-না পাওয়া নিয়েই এই পৃথিবী, এই জীবন।

ভূল যদি হয়

কোনো কিছু করতে গিয়ে ভূল যদি হয়, হোক না। কোনো কিছু গড়তে গিয়ে ভাঙে যদি, ভাঙ্গুক না। সেই ভূল ও ভাঙার মধ্যদিয়েই আমরা এগিয়ে যাব সত্য ও সৃষ্টির দিকে।

কেন?

দিনের পরে রাত্রি আসে কেন?নতুন দিন আসবে বলে।জীবন যদি, মরণ তবে কেন?নতুন জীবন পাব বলে। ভালো যদি মন্দ তবু কেন?আবার ভালো হবে বলে।সুখ যদি, দুঃখ তবে কেন?আবার সুখ আসবে বলে। হাসির পরে কান্না আসে কেন?আবার মোরা হাসব বলে।আশা যদি, হতাশ তবে কেন?আবার আশা করব বলে। পেলে পরে হারাই তবে কেন?আবার …

অথচ আমরা

জীবনটা শুধু নেবার জন্যই নয় কিছু দেবার জন্যও, কর্ম শুধু নিজের জন্যই নয় পরের জন্যও। অথচ আমরা এই সহজ কথাগুলো কত সহজেই না ভূলে যাই!

দুঃখে ভরা পৃথিবী

দুঃখে ভরা পৃথিবী। চারিদিকে ঘোর অন্ধকার। শুধু হিংসা-প্রতিহিংসার খেলা। কোথাও একটু ভালবাসা নেই কারও জন্য। তবুও প্রকৃতির নিয়মে সূর্য ওঠে, পাখি ডাকে।

মানুষের মধ্যে

প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে একটা অসুর থাকে, তাকে মেরে ফেলতে হয়। তা নইলে সে মানুষ আর মানুষ থাকেনা, অসুর হয়ে যায়। প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে একজন দেবতা থাকেন, তাকে খুঁজে নিতে হয়। আর একবার তাঁকে পেয়ে গেলে সে মানুষ আর মানুষ থাকেনা, দেবতা হয়ে যায়।

আজব প্রানী

একযে আছে আজব প্রাণীএই পৃথিবীর বুকে,শহর-গ্রামে বন-বাদাড়েবেড়ায় লুটে-পুটে।জল-জঙ্গল মানে না সেমহাকাশেও ওড়ে,জানো নাকি তারা আবারচাঁদের ওপর চড়ে।

এগিয়ে চল

এগিয়ে চল এগিয়ে চলআমি আছি সাথেসু-শীতল সমীরণবলিছে আমাকে,আসুক যতই বাধাচলার এ-পথেআপন বলেতে তুমিজয় করো তাকে;সত্যের বলে তুমিহও বলিয়ানপ্রভাতের সুর তুমি,হে নব পরাণ। ভয় নেই ভয় নেইআমি আছি সাথেপ্রভাতের সূর্যবলিছে আমাকে,অন্ধকারে কিবা ডর?হোক না তা কালো…রয়েছে তোমার কাছেজীবনের আলো;আপন দ্যুতিতে তুমিহও দ্যুতিময়মনে রেখো-জীবনের হবে জয়।

পূজো মানে

পূজো মানে বন্ধ পড়াপূজো মানে ছুটি,বছর শেষে সবাই আবারএকখানেতে জুটি। পূজো মানে ঢাকের বাড়িঢ্যাম কুর কুর কুর,পূজো মানে হই হল্লাআনন্দে ভরপুর। পূজো মানে মাকে দেখাএকটি বছর পর,পূজো মানে সবাই আপননইতো কেহ পর। পূজো মানে ঘোরাফেরানতুন কাপড়-জামা,পূজো মানে সবাই স্বাধীননেইতো কোনও মানা। পূজো মানে শিউলির ঘ্রাণ আরসাদা কাশের ফুল,পূজো মানে বিজয়াতেবেদনায় …

মাতৃ-দেবী

কেবা আমার কাছের মানুষসবার চেয়ে বেশি আপন,কেবা আমার জন্মদাত্রীকরেছে কে লালন পালন?আমার একটু ঘুমের জন্যঘুম নেই কার চোখে রে?সে যে আমার মা জননীআমার মাতৃ-দেবী রে। কেবা আমার সুখে সুখীদূখী আমার দুঃখেতে,নিজে থেকে উপবাসীখাওয়ায় কেবা আমাকে?রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে দাঁড়াইকার আঁচলের ছায়ায় রে?সে যে পরম স্নেহময়ীআমার মাতৃ-দেবী রে। কার পদতলে নির্বাণ হয়এ জীবনের সকল …